করোনার মধ্যে এইচএসসি নয়

করোনার মধ্যে এইচএসসি নয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচিত হয়েছে। সকল এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একটাই দাবি করোনার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নয়।

ইতিমধ্যেই সকল এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা মিলে করোনার মধ্যে এইচএসসি নয় একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করেছে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই এরকম কথাই বলেছেন:

পরিক্ষা দিতে ভয় পাইলে আপনাদের EDUCATION SYSTEM এ ১২ বছর টিকে থাকতাম না। হুজুগের বসে কোনো ডিসিশন নিবেন না।

আপনার কাছে আমাদের জীবনের মূল্য না থাকলেও আমাদের বাবা মার কাছে আমাদের আছে।

সীমিত আকারে আপনারা কি করেন তা তো রোযার মাস থেকেই দেখলাম!
যাই হোক মিনিস্ট্রি তে মেইল করেন ( করোনার মধ্যে এইচএসসি নয় ) যারা পারেন।

যাদের টুইটার আছে টুইট করেন আন্তর্জাতিক নিউজ পোর্টাল গুলোকে ট্যাগ করেন ট্রেন্ড করলে এটা নজরে আসবে।

Miraz Al Imran নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী বলে:
করোনার মধ্যে এইচএসসি নয়

আপনি কি মনে করেন এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত হবে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া?
একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলছি।

কবে নাগাদ আমাদের পরীক্ষা হতে চলেছে জানি না।তবে ধারনা করা হচ্ছে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে হয়তো শুরু হতে পারে।

আর শিক্ষা সচিবের ভাষ্যমতে পরীক্ষা হবে এক/দুই বেঞ্চ পর পর পরীক্ষার্থী বসিয়ে।এভাবে কী স্বাস্থ্যবিধি মানা আদৌ সম্ভব?

এবার এইচএসসি পরিক্ষায় বসতে যাচ্ছে প্রায় ১৪ লাখ পরিক্ষার্থী, তাছাড়া এদের সাথে আসবে ততোধিক অভিভাবক,এছাড়াও লক্ষাধিক নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মী আর প্রশাসনের লোক।

বিপুল পরিমান শিক্ষক তো রয়েছেন ই।এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ব্যাক্তিগত স্বাস্থ্যের সাথে রয়েছে তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যঝুকি।

আপনি পরিক্ষার হলে স্বাস্থ্যবিধি দেখাচ্ছেন,
এই মানুষগুলো যারা পরিক্ষা হলে আসবে তাদের বেশিরভাগই আসবে গনপরিবহনে।

সেখানে আপনি কখনোই বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে পারবেন না।

এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্বেও এই ১৫ দিন বাহিরে বের হবে কারন তারা জানে মরি-বাঁচি পরীক্ষা তাদের দিতেই হবে এবং বাবা-মা কিংবা আপনজন তাদের পরিক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যাবে।

হ্যাঁ,এটা সত্যি আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অন্যান্য দেশের চেয়ে তুলনামুলকভাবে একটু কম কিন্তু আক্রান্তের হার কিংবা মৃত্যুর হার কোনটাই আগের চেয়ে কমে নি।

মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০ জন থাকতে পারে,কিন্তু এটা এক ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু।

পৃথিবীর কোন বাবা মা চাইবে না তার সন্তানের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হক,না কোন সন্তান চাইবে তার প্রাণপ্রিয় বাবা কিংবা মায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হোক।

কিন্তু তবুও কি আমাদের সবার ই পরিক্ষার তাগিদে জীবনের মায়া ত্যাগ করতে হবে??
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় দুই লাখ করোনা রোগী আছে।

এর মধ্যে সংক্রমিত আমাদের অনেক সহপাঠী ভাই-বোন রাও রয়েছে। রয়েছে তাদের বাবা-মা,,ভাই-বোন।

এসকল শিক্ষার্থীরা কি তবে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিবে না?
নাকি অসুস্থ শরীর নিয়েই তাদেরকে পরীক্ষায় বসতে হবে?

আবার অনেকে দুই তিনটা পরিক্ষা দিয়েই করোনা সংক্রমিত হতে পারে,তখন তাদের কি হবে?


আক্রান্ত পরিক্ষার্থীরা যে হলে পরিক্ষা দিয়েছে,
সেই হলের বাকি শিক্ষার্থী পরবর্তীতে কি করবে?
যদি এমন হয় পরীক্ষার হলে কারো শ্বাসকষ্ট শুরু হল,তবে কি তারা পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যাবস্থা পাবে?

এভাবেও কি একটা বোর্ডের পরীক্ষা নেয়া এতটাই দরকার?
আমরা কখনোই স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে পরিক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না,শুরু থেকেই আমাদেরকে বলা হচ্ছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরিক্ষা নেয়া হবে,তবে এখন কেন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে?


জীবন মানেই যুদ্ধ,তবে এটি এমন একটি যুদ্ধ যেখানে আমাদের হাতে কোন অস্ত্র নেই,নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখাই যেখানে প্রধান হাতিয়ার।

তাছাড়া এবার দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় দেশের প্রায় ৩১ টি জেলার অংশবিশেষ এখনো পানির নিচে।

সেখানকার পরিক্ষার্থীদের কথাও বিবেচনা করা উচিত।

পরিশেষে অনুরোধ জানাই বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মনি এবং তদসংশ্লিষ্ট আমলাদের কাছে যাতে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হয়।

এটি শুধু একজন এইচএসসি পরিক্ষার্থীর আর্তনাদ নয়,আমি একজন বাংলাদেশ হিসেবে, নিজের কথা,নিজের পরিবারের কথা এবং দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের সুরক্ষার কথা ভেবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।

করোনার মধ্যে এইচএসসি নয় গ্রুপটিতে আপনিও জয়েন হতে পারেন।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যে পরীক্ষাটা ৫ মাস ধরে ঝুলে আছে সেটা নিয়ে ভাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *