মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যে পরীক্ষাটা

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যে পরীক্ষাটা ৫ মাস ধরে ঝুলে আছে সেটা নিয়ে ভাবেন। আর যেই পিইসসি, জেএসসি ২ মাস পরে হওয়ার কথা ওইটার চিন্তা বাদ দেন।

আর ওই জেএসসি পিইসসি সার্টিফিকেট কোন কাজে আসবে না।।

ওই পরীক্ষা নিয়ে এতো কিসের মাথাব্যথা? এদিকে যে ১৩ লাখ পরীক্ষার্থী তাদের বাবা মা, দুশ্চিন্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের কথা ভাবেন একবারো??

আপনি কি আসলেই মানুষ? কিভাবে এভাবে খেলতেসেন বলেন তো।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যে পরীক্ষাটা

গণমাধ্যমগুলা একটার পর একটা ভুয়া নিউজ বের করতেসে। তাও কালের কণ্ঠ, প্রথম আলোর মতো শীর্ষস্থানীয় সব পত্রিকাগুলা। আপনি চুপ করে বসে আছেন।
কেন?

আপনারা জেদ করে বসে আছেন এইচএসসি নিয়েই ছাড়বেন। আচ্ছা ভালো কথা, নিবেন। দেশের মানুষের ইনকাম অর্ধেকের ও কম হয়ে গেসে।

মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে আছে। মানুষ ফার্নিচার বিক্রি করে দিয়ে শহর থেকে গ্রামে চলে যাচ্ছে, ৩৪ টা জেলা বন্যা কবলিত। এর মধ্যেও আপনি জেদ করসেন তো যে আপনি পরীক্ষা নিবেন?

আচ্ছা নেন।শর্ত একটাই, যে কয়জন স্টুডেন্ট করোনা আক্রান্ত হবে তাদের প্রত্যেকের চিকিৎসা খরচ আপনারা মন্ত্রীরা এযাবৎকাল চুরি করে যে টাকা কামাইসেন সেখান থেকে দিবেন। আমাদের দেশ একটা গরিব দেশ।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যে পরীক্ষাটা


এদেশের বাপ মায়ের এতো টাকা নাই যে বাচ্চা করোনা আক্রান্ত হলে আইসিইউ ম্যানেজ করবে, অক্সিজেন যোগাড় করে দিবে।

আর আপনার এই চোরের দেশের কি বলবো? স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা তো আরো বেশি শোচনীয়।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যে পরীক্ষাটা

১৩ লাখ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে যাবে, ভেতরে না হয় মানলো স্বাস্থ্যবিধি, বাহিরে কি করবেন? আপনি দাঁড়ায়ে থাকবেন লাঠি নিয়ে?

পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে গাদাগাদি করে উত্তর মিলাবে। ঠেকাইতে পারবেন? লুজ শীট নিবে। স্ট্যাপ্লার ব্যবহার করবে এক রুমের সবাই একটা।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যে পরীক্ষাটা


ঠেকাবেন আপনি? পরীক্ষার হলের বাহিরে বাপ মা বসে থাকবে।
আপনি আটকাবেন করোনা? বাপ মা ফুঁ দিয়ে দিয়ে কেন্দ্রে ঢুকাবে বাচ্চা।

কয়টা বাপ মার ফুঁ আটকাবেন আপনি? শিক্ষক শিক্ষিকা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ তারা তাদের কাজ করার সময় ভিড় হবে না? বাঙালি এতো সুশৃঙ্খল জাতি?

এখন জেদ করার সময় না।। এই এক পরীক্ষার চেয়ে ১৩ লাখ জীবনের দাম অনেক বেশি। আর এই শিক্ষার্থীদের বাড়িতে তাদের বাবা মা আর বয়স্ক সদস্যরা আছেন।

আপনি কি তাদের কথাও একবার ভাববেন না?
আর দয়া করে বাসায় এসি ছেড়ে বসে গ্রীল চিকেন না খেয়ে, গণমাধ্যমে কি কি নিউজ যাচ্ছে একটু দেখবেন।

আজ যদি আপনার সন্তান এইচএসসি পরীক্ষার্থী হতো,আপনি কি করতেন? করতেন এতো নাটক?


আর আমেরিকার মতো উন্নত দেশ, সেখানে তো স্বাস্থ্যবিধি সর্বোচ্চ কঠোরভাবে মানা হয়। ওরা স্কুল খোলার ২ সপ্তাহের মধ্যে ৯৭ হাজার শিশু করোনা পজিটিভ।

আর আমরা বাঙালিরা তো কেমন সচেতন সেটা তো সবাই জানে।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যে পরীক্ষাটা

দয়া করেন আমাদের আর মানসিকভাবে ধর্ষণ করবেন না। আমাদের বাঁচতে দেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী।

আমাদের অটো প্রমোশন দিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত করেন নচেৎ আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। আমাদের দাবি মানতে হবে।

ধন্যবাদ।

কথাগুলো বলেছেন 2020 সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তারাই স্পষ্টভাবে বলতে চেয়েছেন যে তাদেরকে অটোপ্রমোশন দিয়ে আগামী ক্লাসে উত্তীর্ণ করার জন্য।

তবে এখানে তারা একটি ভালো যুক্তি প্রদান করেছেন যে পিএসসি এবং জেএসসি।

আসলে কথাগুলো ঠিক মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী। এখন আসলে আপনার উচিত জেএসসি এবং পিএসসি কথা বাদ দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করা।

কারণ তাদের জীবন শুরু হয়ে গেছে তাদের কর্মজীবনে তারা পদার্পণ করেছে এখন তাদের পিছনে ঘুরে দেখার সময় নেই তাই যত দ্রুত সম্ভব তাদের এই সমস্যাটি সমাধান করে দিন।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী কাছ থেকে আশা করবো যে তিনি অতি দ্রুতই তাদের এই সমস্যাটি সমাধান করে দিবেন।

অবশেষে সকল ছাত্রছাত্রীবৃন্দ দের কাছ থেকে আশা করি যে তারা এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছে দিবেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *